বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত ২০২৬-২০২৭

সর্বশেষ হালনাগাদ:

নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ বা দান করলে হিসাব করা আয়কর থেকে একটি অংশ ছাড় পাওয়া যায়; একে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বলে (আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৮)। ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে রেয়াতের হার ও সর্বোচ্চ সীমা দুটোই বদলেছে।

রেয়াত কত

নিচের তিনটি অঙ্কের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেটিই আপনার রেয়াত:

  1. মোট আয়ের ৩% (করমুক্ত আয়, হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয়, অংশীদারি ফার্ম থেকে পাওয়া শেয়ার আয় এবং চূড়ান্ত করদায়ভুক্ত আয় বাদ দিয়ে);
  2. অনুমোদনযোগ্য মোট বিনিয়োগ ও দানের ১০%;
  3. ৳৭,৫০,০০০।

রেয়াত কখনো হিসাব করা করের চেয়ে বেশি হতে পারে না; আর কোনো করদায় না থাকলে রেয়াতও নেই।

কোন কোন খাত গণ্য হয়

  • জীবন বিমার প্রিমিয়াম;
  • ভবিষ্য তহবিলে (প্রভিডেন্ট ফান্ড) করদাতা ও নিয়োগকর্তার চাঁদা;
  • অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বিমা তহবিলে চাঁদা;
  • সরকারি সিকিউরিটিজ (যেমন সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বন্ড): সর্বোচ্চ ৳৫,০০,০০০ পর্যন্ত বিনিয়োগ;
  • ডিপোজিট পেনশন স্কিম বা মাসিক সঞ্চয় স্কিম (ডিপিএস): সর্বোচ্চ ৳১,২০,০০০;
  • সর্বজনীন পেনশন স্কিমে চাঁদা;
  • স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ, ইউনিট সার্টিফিকেট, মিউচুয়াল ফান্ড ও ইটিএফে নতুন বিনিয়োগ;
  • যাকাত তহবিলে দান, এবং অনুমোদিত দাতব্য হাসপাতাল, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠান ও এনবিআর অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক বা শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে অনুদান।

মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে বিনিয়োগ নগদায়ন করলে, যে বছর নগদায়ন করবেন সে বছর আগে নেওয়া রেয়াতের অংশ অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।

উদাহরণ

একজন বেসরকারি চাকরিজীবীর করযোগ্য আয় ৳৮,৪০,০০০ এবং হিসাব করা কর ৳৫১,০০০। তিনি জীবন বিমায় ৳৫০,০০০, ডিপিএসে ৳১,৫০,০০০ এবং সঞ্চয়পত্রে ৳১,০০,০০০ বিনিয়োগ করেছেন।

  • ডিপিএসের সীমা ৳১,২০,০০০; তাই অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ = ৫০,০০০ + ১,২০,০০০ + ১,০০,০০০ = ৳২,৭০,০০০।
  • (ক) মোট আয়ের ৩% = ৳২৫,২০০; (খ) বিনিয়োগের ১০% = ৳২৭,০০০; (গ) ৳৭,৫০,০০০।
  • সবচেয়ে কম অঙ্ক ৳২৫,২০০; এটিই রেয়াত।
  • রেয়াতের পর প্রদেয় কর = ৫১,০০০ − ২৫,২০০ = ৳২৫,৮০০।

এটি এনবিআরের নির্দেশিকার উদাহরণ ২৩। একই তথ্য আমাদের ডিটেইলড ক্যালকুলেটরে দিলে হুবহু এই ফলাফলই পাবেন। ক্যালকুলেটরের "Eligible Investment and Donations This Year" ঘরে খাতভিত্তিক সীমা মেনে অনুমোদনযোগ্য অঙ্কটি (এখানে ৳২,৭০,০০০) লিখবেন।

রেয়াত ও ন্যূনতম কর

রেয়াত বাদ দেওয়ার পর কর ৳৫,০০০-এর (নতুন করদাতার ক্ষেত্রে ৳১,০০০) কম হলে, এমনকি শূন্য হলেও, ন্যূনতম করই দিতে হবে। অর্থাৎ রেয়াত দিয়ে কর ন্যূনতম করের নিচে নামানো যায় না।

সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২০২৭ (বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, ধারা ৭৮; কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের সারণী; উদাহরণ ২৩)।